শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:২৮ অপরাহ্ন
আমার সুরমা ডটকম ডেস্ক: ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় শঙ্কা জেগে উঠেছে আর্জেন্টিনার।
আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলে হার, এ যেন কোনোভাবে মেনে নিতে পারছে না সমর্থকরা।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে নেমে আর্জেন্টাইনরা মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি। ক্রোয়েশিয়া বরাবরই চাপে মুখে রেখে বড় ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারাল।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোল ছাড়াই শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫৩ মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন এ্যান্টে রেবিচ। এ্যান্টে রেবিচের পর দ্বিতীয় গোলটি করেন লুকা মড্রিচ। শেষ মুহূর্তে আরেকটি গোল করে আর্জেন্টাইনদের কাঁদিয়ে নক আউট পর্বে নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়া। অন্যদিকে বিশ্বকাপের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় শঙ্কা জেগে উঠেছে আর্জেন্টিনার।
ম্যাচটি নিয়ে ফুটবলমোদীদের মধ্যেও চরম উত্তেজনা ছিল। বিশেষ করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের দারুণভাবে হতাশ করেছে।
মনোকষ্টে অনেকে খেলা শেষ হওয়ার আগেই টিভির সামনে থেকে চুপচাপ চলে যান।
আর অনেকে নিজের টিভি ভেঙে ক্ষোভ করেছেন। এ এক ভিন্ন চিত্র। বিশেষ করে বাংলাদেশে আর্জেন্টাইনদের সমর্থক কম নয়।
চলতি রাশিয়া বিশ্বকাপ-২০১৮ এ নিজেদের প্রথম ম্যাচেও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ধারণা করা হয়েছিল ম্যাচটি সহজে জিতে বিশ্বকাপ শুরু করবে লিওনেল মেসিরা।
কিন্তু হয়েছে ঠিক উল্টো। নবাগত আইসল্যান্ড রুখে দিয়েছে তাদের। ১-১ ব্যবধানে ড্র হওয়া ম্যাচটি আর্জেন্টাইনদের জন্য দুঃস্বপ্নই হয়ে রইল। বৃহস্পতিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নক আউট পর্বে উঠতে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না মেসিদের সামনে। সেটা পারেনি।
শনিবার মস্কোয় আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো মাঠেই দাপট নিয়ে খেলেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু প্রতিপক্ষের জমাট ডিফেন্স ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা। এদিন আইসল্যান্ডের গোল মুখে ১১টি শট নেন মেসি। কিন্তু একটিকেও গোলে পরিণত করতে পারেননি লাতিন অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই গোলদাতা। মিস করেছেন পেনাল্টিও। বিপরীতে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে দারুণ শুরু পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম স্থানে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া ২০ নম্বরে। এর আগে ৪ বার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। যার মধ্যে দুইটিতেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। ক্রোয়েশিয়া জিতেছে একটিতে। বাকি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। বিশ্বকাপে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেটি ১৯৯৮ সালে—গ্রুপপর্বে। সেই ম্যাচটিতে ১-০ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু এবার যেন সেই মধুর প্রতিশোধ নিল ক্রোয়েশিয়া।
বলা বাহুল্য, এই সবই পরিসংখ্যান। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে জয় পেতে হলে মাঠেই নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল মেসিদের। কিন্তু পারেনি। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে আগে থেকেই অনেকটাই নির্ভার ছিল ক্রোয়েশিয়া। ফলে আজকের ম্যাচে তারা ছিল অনেকটাই চাপমুক্ত। যা তাদের অনেকটাই এগিয়ে রাখে।
আর প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ার পর সামালোচনায় বিদ্ধ আর্জেন্টিনা। চাপে ছিলেন মেসি নিজেও। তবে সেই চাপ উপেক্ষা করে জ্বলে ওঠার শক্তি আছে বলেই তো তিনি মেসি- সেই কথাও মিথ্যা প্রমাণিত হলো। বর্তমান বিশ্বের সেরা তিন ফুটবলারের তিনি একজন। কিন্তু এই আসরে কোনো চমকই দেখাতে পারেননি তিনি।
আর্জেন্টিনা-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের পূর্ণ বিবরণ
নভগোরোদে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ম্যাচের ৫৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা পিছিয়ে পড়ে গোলরক্ষকের একটি বাজে ভুলে। ব্যাকপাস থেকে পাওয়া একটি বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ স্ট্রাইকারের কাছে তুলে দেন তিনি। পরিনাম ভয়াবহ, গোল হজম করতে হয় তাদের।
গোল সমতা আনতে যখন মরিয়া, ঠিক তখনই আরেকটি গোল হজম করে বসে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮০ মিনিটে লুকা মড্রিচ ক্রোয়েশিয়ার হয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকে পারাস্ত করেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ যে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে, তার প্রমাণ তৃতীয় গোল হজম। ক্রোয়েশিয়ার ফরোয়ার্ডরা একরকম ছেলেখেলার মতো খেলে আর্জেন্টিনার জালে তৃতীয়বার বল জড়ান। যাতে গোলদাতা ইভান রাকিটিচ।
৬৪ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেছিল আর্জেন্টিনা। বদলি স্ট্রাইকার গঞ্জালো হিগুয়েইনের মাইনাসে মেসি সামনে বল পেয়ে জালে জড়াতে পারেননি। এমন সুযোগ নষ্ট করা আর্জেন্টিনার জন্য খুবই হতাশার।
অবশ্য এদিন মেসি ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকা নিজে কোনো ঝলকতো দেখাতেই পারেননি, যা দু’একটি সুযোগ এসেছে তাও কাজে লাগাতে পারেননি।
এর আগে প্রথমার্ধ আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে দুই দলের লড়াইটা ছিল বেশ উপভোগ্য। দারুণ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছে দুই দলই, কোনো দলই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি।
অবশ্য ম্যাচে প্রথম সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া, পঞ্চম মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। বক্সে ঢুকেই ইভান পেরিসিচের চমৎকার প্লেসিং আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক কোনো মতে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন।
১২ মিনিটে মেসি পেয়েছিলেন দারুণ সুযোগ, বক্সের বাইরে থাকা আসা দারুণ একটি ক্রসে পা ছোঁয়ালেই গোল হতো। কিন্তু মেসি ব্যর্থ হন।
পরের মিনিটে একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে চেপে ধরেছিল আর্জেন্টিনা। এবারও ব্যর্থ মেসির দল।
তবে ৩২ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করে। বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ক্রসে এ্যারন গানারসন মাথা ছোঁয়ালেই গোল হতো, কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন।
এই হারে মেসির আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কা জেগে উঠলেও, একেবারেই সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। পরের ম্যাচে নাইজেরিয়ার মোকাবিলায় নামবে তারা, সে ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে নকআউট পর্বে খেলতে পারবে কিনা তারা।